Items For You
@oleobone

মন সতেজ রাখতে গান শোনার উপকারিতা | মানসিক প্রশান্তি

প্রতিদিনের জীবনে গান শোনার অভ্যাস

গান শুনতে শুনতে মন হারিয়ে যায় নিজের জগতে

কখনও কি এমন হয়েছে, মনটা কোনও কারণ ছাড়াই একটু খারাপ লাগছে, অথচ কাউকে কিছু বলতেও ইচ্ছা করছে না? চারপাশে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, মানুষজন নিজেদের কাজে ব্যস্ত, কিন্তু নিজের মনটা যেন কেমন চুপচাপ হয়ে আছে। এমন সময় হঠাৎ কোনও প্রিয় গান কানে ভেসে এলে মুহূর্তটা একটু অন্য রকম হয়ে যায়।

গানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা বোধ হয় ঠিক এমনই। সব সময় গান শোনার জন্য বিশেষ কোনও কারণ লাগে না। কখনও কাজ করতে করতে, কখনও বাসে বা ট্রেনে যেতে যেতে, আবার কখনও বিকেলের অলস সময়ে জানালার পাশে বসে গান শুনতে ভালো লাগে। পরিচিত কোনও সুর বাজতে শুরু করলে অজান্তেই মনে হয়, এই গানটা যেন কত দিনের চেনা!

একটা গান, কত পুরোনো স্মৃতি!

পুরোনো বাংলা গান শুনলে মাঝে মাঝে মনে হয়, স্মৃতিরও বোধ হয় নিজস্ব কোনও সুর আছে। যে গানটা ছোটবেলায় বাড়িতে বাজত, বহু বছর পরে হঠাৎ সেটি শুনলে মনে পড়ে যায় সেই সময়ের কথা। মনে পড়ে যায় বাড়ির মানুষগুলোর কথা, পুজোর ছুটির দিনগুলি কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো কোনও সাধারণ বিকেল।

সেই দিনগুলো আর ফিরে আসে না, কিন্তু গানটা শুনলে মনে হয়, স্মৃতিগুলো কোথাও হারিয়ে যায়নি। মনের মধ্যে তারা ঠিকই রয়ে গেছে, শুধু ফিরে আসার জন্য একটা পরিচিত সুরের অপেক্ষায় ছিল।

কিছু গান আবার এমন হয়, যেগুলোর কথা শুনতে শুনতে নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তখন মনে হয়, এই কথাগুলো যেন আমারই কথা! হয়তো এ কারণেই একই গান বারবার শুনেও আমাদের বিরক্তি আসে না।

মন খারাপের দিনে গান যেন নীরব সঙ্গী

মন খারাপ হলে সবাই যে কথা বলতে ভালোবাসেন, তা নয়। কেউ চুপচাপ থাকতে চান, কেউ একা বসে ভাবেন, আবার কেউ পছন্দের গান চালিয়ে দেন। গানের কথাগুলো কখনও নিজের না-বলা অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়।

বিষণ্ণ কোনও গান শুনলে পুরোনো কোনও কথা মনে পড়তে পারে। আবার প্রাণবন্ত সুর শুনে হঠাৎ করেই মনটা একটু ফুরফুরে হয়ে উঠতে পারে। অবশ্য সবার অনুভূতি এক রকম নয়। যে গান একজনকে আনন্দ দেয়, অন্য কারও কাছে সেটিই হয়তো স্মৃতিমাখা মনখারাপের কারণ।

গানের এই ব্যক্তিগত দিকটাই আমার কাছে বেশ সুন্দর মনে হয়। একই সুরের মধ্যে প্রত্যেক মানুষ নিজের মতো করে আলাদা কিছু খুঁজে পান।

কলকাতার ব্যস্ততার মাঝেও একটু গান

কলকাতার রাস্তায় বেরোলেই বোঝা যায়, শহরটা কত ব্যস্ত! বাসের শব্দ, গাড়ির হর্ন, রাস্তার ভিড়, মানুষের তাড়াহুড়ো—সব মিলিয়ে চারপাশে যেন একটানা ছুটে চলা। সেই ভিড়ের মধ্যে বাসের জানালার পাশে বসে কেউ হয়তো নিজের পছন্দের গান শুনছেন।

বাইরে রাস্তা বদলাচ্ছে, মানুষ ওঠানামা করছেন, শহর নিজের গতিতে এগিয়ে চলেছে। অথচ কানে বাজতে থাকা গানটির সঙ্গে সেই মানুষটি হয়তো নিজের কোনও স্মৃতিতে ডুবে রয়েছেন। বাইরে থেকে দেখলে মুহূর্তটি খুব সাধারণ, কিন্তু তাঁর কাছে সেটি হয়তো দিনের সবচেয়ে ভালো লাগার সময়।

বাড়িতেও এমন হয়। বিকেলে চায়ের কাপ হাতে বসে থাকা, বাইরে হালকা বৃষ্টি পড়া আর ঘরের মধ্যে বাজতে থাকা কোনও পুরোনো গান—এই ছোট্ট দৃশ্যের মধ্যেই কতটা শান্তি লুকিয়ে থাকতে পারে!

সব গানের মেজাজ এক নয়

কখনও রবীন্দ্রসংগীত শুনতে ইচ্ছা করে, কখনও পুরোনো বাংলা সিনেমার গান, আবার কোনও দিন আধুনিক গানের ছন্দই বেশি ভালো লাগে। পুজোর সময় ঢাকের আওয়াজ আর উৎসবের গান অন্য রকম আনন্দ নিয়ে আসে। আবার একান্তে বসে ধীর সুরের কোনও গান শুনতে শুনতে সময়ের হিসাবও ভুলে যাওয়া যায়।

কোনও গান ভালো লাগার পেছনে সব সময় তার কথাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। কখনও সুর ভালো লাগে, কখনও গায়কের কণ্ঠ, আবার কখনও গানটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কোনও বিশেষ মুহূর্ত। তাই গান বেছে নেওয়ারও যেন আলাদা কোনও নিয়ম নেই। মনের সঙ্গে যেটা মিলে যায়, সেটাই তখন প্রিয় হয়ে ওঠে।

গান শেষ হয়, অনুভূতিটা থেকে যায়

একটি গান শেষ হয়ে গেলে পরের গান শুরু হয়। কিন্তু আগের গানটির কোনও লাইন, কোনও সুর কিংবা কোনও স্মৃতি অনেকক্ষণ ধরে মনে বাজতে থাকে। কখনও অজান্তেই সেই গানের কথা গুনগুন করতে থাকি। কখনও আবার কোনও বিশেষ লাইন মনে পড়ে নিজের মনেই হেসে ফেলি।

জীবনের সব আনন্দ যে বড় কোনও ঘটনা থেকে আসে, তা নয়। অনেক সময় এমন ছোট ছোট মুহূর্তই দিনের ক্লান্তির মধ্যে একটু ভালো লাগা এনে দেয়। গানও তেমনই একটি বিষয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ব্যক্তিগত স্মৃতি, অনুভূতি, ভালো লাগা আর কখনও কিছু না-বলা কথা।

হয়তো সেই কারণেই এত ব্যস্ততার মধ্যেও আমরা গান শুনি। কখনও সময় কাটানোর জন্য, কখনও পুরোনো দিনগুলিকে মনে করার জন্য, আবার কখনও শুধু নিজের মতো করে কয়েকটা মুহূর্ত কাটানোর জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top